কূটনৈতিক প্রতিবেদক
বাংলাদেশের মানুষের আতিথেয়তা কখনো ভোলার নয়। এখানকার মানুষের ভালোবাসা, অন্তরঙ্গতা চিরকাল আমার মনে থাকবে। কখনো ভুলবার নয়, ভুলব না। এ মন্তব্য ভারতের বিদায়ী হাইকমিশনার রাজিত মিত্তারের। দুই বছর ঢাকায় দায়িত্ব পালন শেষে ১ নভেম্বর দিলি্ল ফিরছেন তিনি। এ উপলক্ষে গতকাল দুপুরে ভারতীয় হাইকমিশনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন রাজিত মিত্তার। এ সময় নিজ থেকে এবং সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নিয়ে নানা কথা বলেন তিনি। বিদায়ী হাইকমিশনার বলেন, সামপ্রতিক সময়ে সম্পর্কের বিশেষ উন্নতি হয়েছে। বাংলাদেশের সরকারের ইতিবাচক মনোভাবের কারণে সম্পর্ককে এগিয়ে নেওয়াটা আমাদের জন্য সহজ হয়েছে। ঢাকায় দুই বছরের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে তিনি বলেন, এই দুই বছরে দুই দেশের সম্পর্কে বেশ উন্নতি হয়েছে। কারণ এ সময়ের মধ্যে দুই প্রধানমন্ত্রী দুবার বৈঠকে বসার পাশাপাশি মন্ত্রী ও সচিব পর্যায়ের বৈঠক হয়েছে। সীমান্ত প্রটোকল স্বাক্ষরের মাধ্যমে দীর্ঘ সময়ের সমস্যার সমাধান হওয়াটাকেই তিনি মূল সফলতা বলে মনে করেন। ট্রানজিট প্রসঙ্গে রাজিত মিত্তার বলেন, ১৯৭২ সাল থেকেই দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের জন্য বাংলাদেশ দিয়ে ট্রানজিট সুবিধা ব্যবহার করছে ভারত। এটি নতুন নয়। বাংলাদেশে বিভিন্ন সরকারের আমলে এটি অব্যাহত ছিল। ট্রানজিটের মাধ্যমে বাংলাদেশই বেশি লাভবান হচ্ছে। কারণ বাংলাদেশের যানবাহনের মাধ্যমেই ভারতে পণ্য পরিবহন হচ্ছে। আর জাহাজে যেসব পণ্য আসছে তার ৯৫ শতাংশই হচ্ছে বাংলাদেশের। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ মুহূর্তে ট্রানজিট ফি নির্ধারণই হচ্ছে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে সবচেয়ে 'আলোচিত বিষয়'। কিন্তু ভারত সব সময়ই বলছে আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী মাশুল দেওয়া হবে। ইতোমধ্যেই নৌ প্রটোকলের আওতায় যেসব চার্জ দেওয়ার কথা_ আমরা তা দিচ্ছি। ট্রানজিটে লাভের বিষয়টি মূল্যায়ন করতে হলে দুই পক্ষের লাভের বিষয়টিতে গুরুত্ব দিতে হবে। এতে এক পক্ষের লাভ হলে চলবে না। আর এর মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে সব পক্ষ অর্থনৈতিকভাবে লাভবান না হলে তা টেকসই হবে না। চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দরে ট্রানজিট চালু হলে, নতুন করে ফি নির্ধারণ হবে। স্বল্পমেয়াদে তা পরিবর্তন করা হলে ফির হার বেশি, এ যুক্তি দিয়ে ব্যবসায়ীরা ট্রানজিট ব্যবহার করবে না। তিস্তা নদীর পানিবণ্টন চুক্তি প্রসঙ্গে রাজিত মিত্তার বলেন, তিস্তা চুক্তি সই না হওয়াটা বাংলাদেশের জন্য হতাশার। তাই বলে একটি প্রসঙ্গ সব কিছুকে ছাপিয়ে যাবে এটা হতে পারে না। আমি আশাবাদী আমরা কিছুটা সময় নিয়ে এ বিষয়ে একটা সমাধানে পেঁৗছতে পারব। তিনি বলেন, এ চুক্তির সঙ্গে অনেক বিষয় জড়িত। সব বিষয় দেখে অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তিটি সই করতে হবে। এ ব্যাপারে আমাদের চেষ্টা অব্যাহত আছে। সবার কাছে গ্রহণযোগ্য এবং ন্যায্যতা ও সমতার ভিত্তিতেই এ চুক্তিটি হতে হবে।
ভারতের প্রতিশ্রুত ১০০ কোটি ডলার ঋণচুক্তির প্রকল্পগুলো সম্পর্কে বিদায়ী হাইকমিশনার দাবি করেন, এতে যথেষ্ট অগ্রগতি হয়েছে। এ অগ্রগতিতে আমরা সন্তুষ্ট। এ পর্যন্ত আমরা ৭৫ কোটি ডলারের প্রকল্প চূড়ান্ত করেছি। বিচ্ছিন্নতাবাদী উলফা নেতা অনুপ চেটিয়াকে ভারতের কাছে সম্ভাব্য হস্তান্তরের বিষয়ে তিনি বলেন, আমি নির্দিষ্টভাবে কোনো ব্যক্তির কথা বলব না। তবে নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে আমাদের চমৎকার সহযোগিতা রয়েছে।








