লেখক: তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
আমাদের এই বাংলাদেশকে বলা যায় প্রতিভাবানদের দেশ। সেই প্রাচীনকাল থেকেই এই ভূখণ্ডের মানুষ তাদের প্রতিভার প্রমাণ দিয়ে আসছে বিশ্বজুড়ে। সম্প্রতি এরকম আরেক প্রতিভার প্রমাণ মিললো আমাদের দেশেই। মাত্র ১৪ বছর বয়সে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত পিএইচপি’র জেন্ড সনদ অর্জন করে বিশ্বজুড়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছে আমাদের শেহাজদ নূর তাউস।
অভিনেত্রী মিতা নূরের পুত্র এ বছর আগাখান স্কুলের অষ্টম শ্রেণীর চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশ নেয়া শেহজাদ নূর তাউস শখের বশেই কম্পিউটার প্রোগ্রামিং নিয়ে পড়ালেখা শুরু করে ৪/৫ বছর আগে। এক্ষেত্রে তার মেধার স্বাক্ষর দেখতে পেয়ে তাকে সব ধরনের সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয় তার পরিবার। ধীরে ধীরে সে সি, সি++, সি#, জাভা, ভিজ্যুয়াল বেসিকের মতো প্রোগামিং ল্যাংগুয়েজগুলো আয়ত্ব করে নিয়ে আসে সহজেই। এর পরে তার নজর পড়ে পিএইচপি’র উপরেই। বিশ্বব্যাপী ওয়েসসাইট এবং ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন তৈরিতে পিএইচপি একটি স্বীকৃত এবং বহুল ব্যবহূত প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ। ফেসবুক বা ইয়াহু’র মতো সাইটগুলোতেও ব্যবহার করা হয়েছে। এই প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ। এক সময় পিএইচপির উপরেও পড়ালেখা করে এক আয়ত্বে নিয়ে আসে শেহজাদ। তবে পিএইচপির সনদ অর্জনের জন্য দিতে হয় পরীক্ষা। প্রায় ২ বছর পিইচপি নিয়ে পড়ালেখা করে এবং এর উপর কাজ করে শেহজাদ তার আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে নেয়। অবশেষে এ বছরে সে সিদ্ধান্ত নেয় পিএইচপি’র সনদের জন্য পরীক্ষা দেবার। বাংলাদেশ প্রথম জেন্ড সার্টিফায়েড ইঞ্জিনিয়ার হাসিন হায়দারের সাথে কথা বলে সে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের চূড়ান্ত প্রস্তুতি শুরু করে। ২৮ মে ২০১১ তে সে অবর্তীণ হয় পিএইচপি ৫.৩ সার্টিফিশেন পরীক্ষায় এবং সাফল্যের সঙ্গে সেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে শেহজাদ এখন শুধু বাংলাদেশেরই নয়, বিশ্বের কনিষ্ঠতম জেন্ড সার্টিফায়েড ইঞ্জিনিয়ার (জেড সিই)। বাংলাদেশে জেডসি’ইর সংখ্যা মাত্র ৩৪ জন। আর বিশ্বব্যাপী এ সংক্রান্ত মাত্র ৫ হাজারের কিছু বেশি।
বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত অন্যতম সেরা এই সনদপ্রাপ্তিতে শেহজাদের কৃতিত্ব আরো বেড়ে যায়, যখন বয়সের দিক থেকে সে এই সনদপ্রাপ্তদের মধ্যে কনিষ্ঠতম। দেড় ঘণ্টার পরীক্ষা শেষ করতে সে সময় নিয়েছে এক ঘণ্টারও কম।
শেহজাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, আর অষ্টম শ্রেণীর চূড়ান্ত পরীক্ষা শুরু হওয়ার ঠিক আগের দিন সে অংশ নেই জেডসিই পরীক্ষায়। মে’র ২৯ তারিখ থেকে শুরু হয় তার অষ্টম শ্রেণীর চূড়ান্ত পরীক্ষা, আর মে’র ২৮ তারিখে সে অংশ নেয় পিএইচপি’র পরীক্ষায়। এত অল্প বয়সে জেন্ড এর সনদ পেয়েও সবকিছু পাওয়া হয়ে গেছে বলে ভাবছে না শেহজাদ। বরং সে মনে করে এই হলো চলার শুরু মাত্র। বর্তমানে সে মাই এসকিউএল নিয়ে কাজ শিখছে। পাশাপাশি ফ্রিল্যান্সিং এর মাধ্যমে আউটসোর্সিং এর কাজ করছে শেহজাদ। আর সবসময়ই তার মাথার মধ্যে ঘুরছে নতুন কিছু করার। ঠিক এমন ধরনের কোনো অ্যাপ্লিকেশন সে বানাতে চায়, যা আগে কেউ করেনি। আমরা আশাবাদী, শেহজাদ তা পারবে। শেহজাদের ব্লগসাইট universal thinker. wordpress.com। তার ব্লগেই সে জানিয়েছে তার আকাশ ছোঁয়া লক্ষের কথা-‘আমি ক্রমশই এগিয়ে যেতে চাই আমার সেই স্বপ্নের দিকে। যে স্বপ্নে আমি একদিন বিল গেটস বা মার্ক জুকারবর্গের মতো ব্যক্তিদের পাশে দাঁড়াতে পারবো। আমার সে স্বপ্ন কখনো পূরণ হবে কি না আমি জানি না, তবে তার জন্য চেষ্টায় আমার ঘাটতে থাকবে না’। আমরা বিশ্বাস করি শেহজাদের মেধা আর শ্রম তাকে নিয়ে যাবে তার লক্ষ্যের দোড়গোড়ায়।








