প্রোস্টেট ক্যানসার চিকিত্সায় নতুন সাফল্য পেয়েছেন যুক্তরাজ্যের একদল চিকিৎসক। লন্ডনের রয়াল মার্সডেন হাসপাতালের চিকিত্সকেরা পরীক্ষামূলকভাবে প্রোস্টেট ক্যানসার নিরামক ওষুধ ব্যবহারে সফলতার দাবি করেছেন। চিকিৎসকদের দাবি অনুযায়ী, নতুন এই ওষুধ প্রাথমিক পর্যায়ে ক্যানসার কোষবাহী টিউমারের বিস্তার ঠেকাতে সক্ষম হয়েছে। তাঁরা প্রোস্টেট ক্যানসার রোগীদের চিকিত্সায় শক্তিশালী আলফা রশ্মি ব্যবহার করে দেখেন, এতে রোগীরা কম কষ্ট পান এবং এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কম। চিকিত্সা নেওয়া রোগীরা এ ক্যানসারে আক্রান্ত অন্যদের চেয়ে খানিকটা বেশি সময় বাঁচেন।
গত এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে টিউমারের বিস্তার নষ্ট করতে রশ্মি ব্যবহূত হচ্ছে। এই রশ্মি ক্যানসার বিস্তারকারী জেনেটিক কোড ধ্বংস করে দেয়। রশ্মির জগতে আলফা কণা বড় ও বিপুল। এটা বেটার রশ্মির চেয়ে অনেক বড়। প্রধান গবেষক চিকিত্সক ক্রিস পার্কার বিবিসিকে বলেন, আলফা রশ্মি এক, দুই বা তিনবারের মাথাতেই ক্যানসারের কোষ ধ্বংস করতে সক্ষম। বেটা রশ্মির ক্ষেত্রে এটা কয়েক হাজার বার লাগে। এ ছাড়া আলফা কণা ক্যানসারের আশপাশের কোষগুলোর কম ক্ষতি করে। তিনি এটাকে প্রোস্টেট ক্যানসার চিকিত্সায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি বলেছেন।
ক্যানসার রিসার্চ ইউকে এর রেডিও থেরাপি বিশেষজ্ঞ এবং গ্রে ইনস্টিটিউট ফর রেডিয়েশন অনকোলজি অ্যান্ড বায়োলজির পরিচালক অধ্যাপক গিলিস ম্যাককেনা বলেন, গবেষণাটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ মনে হচ্ছে। দ্বিতীয় পর্যায়ে থাকা টিউমারের চিকিত্সার ক্ষেত্রে এ ফলাফল অর্জন গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হতে পারে। এ ব্যাপারে আরও গবেষণা হওয়া প্রয়োজন।
নতুন এই ফলাফল ইউরোপিয়ান মাল্টিডিসিপ্লিনারি ক্যানসার কংগ্রেসে উপস্থাপন করা হয়েছে। তবে বিষয়টি এখনো অন্য গবেষকেরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখেননি। যুক্তরাজ্যে প্রতিবছর প্রায় ৩৬ হাজার মানুষের প্রোস্টেট ক্যানসারের চিকিত্সা নেন। তাদের মধ্যে মারা যায় প্রায় ১০ হাজার মানুষ। ২০০৮ সালে সারা বিশ্বে আনুমানিক নয় লাখ ১৩ হাজার মানুষের শরীরে প্রোস্টেট ক্যানসার ধরা পড়ে। ধীরে ধীরে এই ক্যানসারের বিস্তার ঘটে বলে সাধারণ কোনো লক্ষণ ধরা পড়ে না।








