মানাসলু পর্বতের শিখরে আরোহণ করার মতো সামর্থ্য বাংলাদেশের প্রথম নারী পর্বতারোহী নিশাত মজুমদারেরও ছিল। কারণ ততক্ষণে তিনি মানাসলুর ২৩ হাজার ফুট ওপরে তিন নম্বর ক্যাম্পে পৌঁছে গেছেন। কিন্তু বাদ সাধে ঝড়। সংকট দেখা দেয় অক্সিজেনের। শেষ পর্যন্ত নিশাত নিজের বোতলজাত অক্সিজেন দিয়ে দেন সতীর্থ এম এ মুহিতকে। সেই সুবাদে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে মুহিত বিপজ্জনক মানাসলুর ২৬ হাজার ৭৮০ ফুট উঁচু শৃঙ্গে আরোহণ করেন।
আজ শনিবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে বিশ্বের চতুর্থ বিপজ্জনক পর্বত মানাসলুর পর্বতারোহী দলের পতাকা প্রত্যর্পণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বাংলা মাউন্টেনিয়ারিং অ্যান্ড ট্রেকিং ক্লাব। এতে আরোহণের প্রামাণ্য স্থিরচিত্র ও ভিডিও প্রদর্শন করা হয়। অনুষ্ঠানের সভাপতি ইনাম আল হক জানান, এম এ মুহিতই একমাত্র বাঙালি, যিনি এ পর্যন্ত এভারেস্ট, চো ইয়ো ও মানাসলু—তিনটি পর্বতশৃঙ্গে আরোহণ করলেন।
অনুষ্ঠানে নিজেদের রোমাঞ্চকর অভিযানের বর্ণনা দেন মুহিত ও নিশাত মজুমদার। তাঁরা জানান, বিশ্বের অষ্টম উঁচু শৃঙ্গের নাম মানাসলু। এ শৃঙ্গ আরোহণে এ পর্যন্ত ৪৫০ জন পর্বতারোহী বিজয়ী হয়েছেন। মানাসলু শৃঙ্গে আরোহণ করতে গিয়ে মারা গেছেন ৮০ জন। এই হিসাবে এটি চতুর্থ বিপজ্জনক শৃঙ্গ হিসেবে পরিচিত।
মুহিত ও নিশাত গত ২৭ সেপ্টেম্বর নেপালের সতিখোলা থেকে যাত্রা শুরু করেন। ৩ অক্টোবর তাঁরা পর্বতের ১৫ হাজার ৭৫০ ফুট ওপরের বেসক্যাম্পে পৌঁছেন; ৯ অক্টোবর পৌঁছেন তিন নম্বর ক্যাম্পে। আর ১০ অক্টোবর দুই আরোহী বোতলজাত অক্সিজেন ব্যবহার করে তিন নম্বর ক্যাম্প থেকে চূড়ার দিকে অগ্রসর হতে শুরু করেন। কিন্তু ৭০০ ফুট অতিক্রম করার পর তাঁরা ঝড়ের কবলে পড়েন। এ সময় মুহিত ও নিশাত ফিরে যান তিন নম্বর ক্যাম্পে।
মুহিত জানান, এ সময় তাঁদের অক্সিজেন-সংকট দেখা দেয়। যেটুকু অক্সিজেন ছিল, তাতে একজনের পক্ষে শৃঙ্গে যাওয়া সম্ভব। তাই নিশাত নিজের অক্সিজেনের বোতল তাঁকে দিয়ে দেন, যা নিয়ে ১১ অক্টোবর রাত ১১টায় তিনি ক্যাম্প থেকে যাত্রা শুরু করেন। এরপর বিপজ্জনক হিমবাহ অতিক্রম করে ১২ অক্টোবর দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে তিনি মানাসলুর শীর্ষে আরোহণ করেন।
মুহিত বলেন, ‘মানাসলুর শীর্ষে ওঠার মতো শক্তি, সামর্থ্য ও সুস্থতা নিশাতের ছিল। শুধু আমাকে সুযোগ দেওয়ার জন্য তিনি নিজে বেসক্যাম্পে ফিরে গিয়েছিলেন।’
নিশাত জানান, মানাসলুতে চড়তে ব্যর্থ হলেও আগামী এপ্রিলে তিনি এভারেস্ট শৃঙ্গে আরোহণের চেষ্টা চালাবেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হোসেন জিল্লুর রহমান, অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম, লেজার মেডিকেল সেন্টারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাহানারা ফেরদৌস খান ও ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের হেড অব মার্কেটিং আজম খান।








