ঢাকায় থাকি প্রতিবেদক
বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে ডেনমার্কের রাজকন্যা
‘বাংলার জমিদারি আমলে এই বাড়িগুলো করা। এই বাড়ির নাম রূপলাল হাউস। এর পাশেই একসময় বহমান ছিল বুড়িগঙ্গা নদী। কালের বিবর্তনে বাড়ি থেকে বুড়িগঙ্গা এখন অনেক দূরে চলে গেছে। মানুষের নির্বিচার ব্যবহারে ধ্বংস হচ্ছে বাড়িটি।’ এভাবেই ডেনমার্কের প্রিন্সেস আলেকজান্দ্রাকে ঢাকার ঐতিহ্যবাহী রূপলাল হাউসের পরিচয় করিয়ে দিচ্ছিলেন আরবান স্টাডি গ্রুপের প্রধান নির্বাহী ও দলনেতা তাইমুর ইসলাম।
৩ ডিসেম্বর ঢাকা সফরে আসা ডেনমার্কের রাজপরিবারের সদস্য ও ইউনেসকোর দূত প্রিন্সেস আলেকজান্দ্রাকে আরবান স্টাডি গ্রুপের পক্ষ থেকে পুরান ঢাকা ঘুরে দেখানো হয়। এ সময় ওয়ারীর খ্রিষ্টান কবরস্থান, লালমোহন সাহা স্ট্রিটের পুরোনো বাড়ি, শঙ্খনিধি প্যালেস, বড়বাড়ি, রূপলাল হাউস, লালকুঠি ও বিউটি বোর্ডিং দেখেন তিনি; বেশ আগ্রহ নিয়ে এসবের ইতিহাস জেনে নেন। বড়বাড়িতে বানর-দর্শন ও শ্যামবাজারে মানুষের ভিড়ে হাঁটতে গিয়ে মজা পান তিনি।
মসলার বাজারে মরিচের ঝাঁজ ডেনিশ রাজকন্যাকে কাবু করেছে বলেই মনে হয়েছে। ঢাকার শাঁখারিদের তৈরি শাঁখা দেখেন আলেকজান্দ্রা। সবশেষে বিউটি বোর্ডিংয়ে একটি ছোট্ট আলোচনা পর্বের মধ্য দিয়ে রাজকন্যার পুরান ঢাকা দেখা শেষ হয়। সেখানে পুরান ঢাকার ওপর নির্মিত একটি প্রামাণ্যচিত্র দেখানো হয়।
প্রিন্সেস আলেকজান্দ্রা ঢাকা দেখার সময় বারবার একটি কথাই বলছিলেন, ‘এত মূল্যবান প্রত্নসম্পদ এমন অরক্ষিত! এই প্রত্নসম্পদ ঘিরে খোলা যেতে পারে বাংলাদেশের পর্যটনের নতুন দুয়ার।’ বুড়িগঙ্গা নদীর পানিদূষণ দেখে তিনি বুড়িগঙ্গাপারের মানুষের স্বাস্থ্য নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন। পুরান ঢাকা ঘোরার সময় রাজকন্যার সঙ্গে ছিলেন ঢাকাস্থ ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত ইসভেন্ড অলিংস ও তাঁর স্ত্রী অ্যান অলিংস। ইসভেন্ড অলিংস জানালেন, তিনি এর আগে বহুবার ঢাকার পুরোনো বাড়িঘর দেখে গেছেন। ঢাকার ঐতিহ্য রক্ষায় সার্বিক পরিকল্পনা করা উচিত বলে তিনি মনে করেন।








