সন্ধ্যাবেলা। বুয়েট ক্যাম্পাস। কনকনে শীত উপেক্ষা করে চার-পাঁচ বন্ধু মিলে আড্ডা দিচ্ছে। কখনও পড়াশোনা, আবার কখনও পড়াশোনার বাইরে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তুমুল আড্ডা চলছে। এর মধ্যে একজনের বাংলায় কথা বলার ধরন দেখে কৌতূহলী হয়ে তাকে জিজ্ঞেস করতেই বলে উঠলেন, ‘আমি ভিনদেশি’। শুরু হল আমাদের আলাপ।
জানা গেল তার নাম সরোজ কুমার ইয়াদেব। বাড়ি হিমালয়কন্যা নেপালের জনকপুর অঞ্চলে। কাঠমান্ডু থেকে এর দূরত্ব ৩৫০ কি. মি.। গত বছর সার্ক বৃত্তি নিয়ে বাংলাদেশে পড়তে আসেন। পড়াশোনা করছেন বুয়েটে, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স বিষয়ে। থাকেন বুয়েটের ড. এম এ রশীদ হলে। বাংলাদেশে পড়তে আসার কারণ জিজ্ঞেস করতেই বলেন, ‘ছোটবেলা থেকে ইচ্ছা ছিল ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার।
আমাদের দেশে শুধু দুটো ইউনিভার্সিটিতে ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে পড়ানো হয়। এগুলোতে ভর্তি হওয়া অনেক কঠিন। আমাদের দেশে বুয়েটের অনেক সুনাম। ভর্তি হওয়ার জন্য বাংলাদেশ এম্বেসিতে পরীক্ষা দিলাম। এরপর হয়ে গেলে এখানে চলে আসি।’
হাসিখুশি চঞ্চল আর শৌখিন ছেলে সরোজ, আড্ডাপ্রিয়ও বটে। বুয়েটে তার অনেক বন্ধু। গুনে শেষ করা যাবে না। সময় পেলেই বন্ধুদের নিয়ে আড্ডা দেন, ঘুরতে বেরিয়ে পড়েন। ঢাকায় জাতীয় জাদুঘর, জাতীয় চিড়িয়াখানা, লালবাগ কেল্লা, আহসান মঞ্জিলসহ প্রায় সব দর্শনীয় জায়গা ঘুরে দেখেছেন তিনি। ছেলেবন্ধুর পাশাপাশি সরোজের রয়েছে বাঙালি মেয়েবন্ধু। বললেন তার কথা-‘ও অনেক সাহায্যপরায়ণ। আজকে আমি বাংলায় কথা বলতে পারছি, শুধু ওর জন্যই। বাংলা ভাষা শিখতে সব রকম সাহায্যই ও আমাকে করেছে।’
নেপালের অন্য অনেকের মতো সরোজেরও রয়েছে পাহাড়ে ওঠার অভ্যাস। তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশের অনেক পাহাড়েই উঠেছি।’ বাংলাদেশি কোনো পাহাড়ে উঠেছেন কিনা জিজ্ঞেস করতেই মুচকি হেসে বলেন, ‘সত্যি কথা বলতে কি আসলে আপনাদের দেশের পাহাড়গুলো আমার কাছে পাহাড় বলে মনে হয় না। মনে হয় এ পাহাড়গুলো এক-একটি পাথরখণ্ড। আমরা বিশাল বিশাল পাহাড় দেখে অভ্যস্ত। এজন্য বোধ হয় এ রকম মনে হয়।’
রাজ্জাক সরকার








