জাপানের প্রখ্যাত দৈনিক পত্রিকা ‘দি মাইনিচি ডেইলি নিউজ’এ বাংলাদেশের ভারী শিল্পের অগ্রগতির উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করা হয়েছে। ১০ মার্চ পত্রিকাটিতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয় বাংলাদেশে ভারী শিল্পায়নের ব্যাপক প্রসার হচ্ছে।
বাংলাদেশের এই অগ্রগতিতে মুগ্ধ হয়ে বর্তমানে জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলো ক্রমেই এদেশের শিল্পায়নের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠছে বলেও উল্লেখ করা হয় প্রতিবেদনে।
বাংলাদেশের স্থানীয় কোম্পানিগুলো বর্তমানে ভারী শিল্প স্থাপনের জন্য ব্যাপকভাবে এগিয়ে আসছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। বাংলাদেশি শিল্প উদ্যোক্তাদের এই উদ্যোগ ১৬ কোটির বেশি জন অধ্যুষিত এশিয়ার অন্যতম প্রতিশ্রুতিশীল এই বাজারে প্রবেশের ক্ষেত্রে জাপানি শিল্প উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ও কোম্পানিগুলোর জন্য নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
এ সময় প্রতিবেদনে বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় ইলেক্ট্রনিক্স পণ্য নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ওয়ালটন হাইটেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডকে বাংলাদেশের শিল্প উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর তালিকার শীর্ষে অবস্থানকারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
প্রতিষ্ঠানটি এখন আরো বিস্তৃত হয়ে বাংলাদেশের মধ্যে প্রথম বেসরকারি উদ্যোগে গাড়ি উৎপাদনের পরিকল্পনা করছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়।
২০০৬ সালে প্রথম উৎপাদনে যাওয়া প্রতিষ্ঠানটিকে বাংলাদেশের প্রথম দেশীয় ইলেক্ট্রনিক্স পণ্য উৎপাদক প্রতিষ্ঠান হিসেবে উল্লেখ করে প্রতিষ্ঠানটি আগামী বছর নাগাদ গাড়ি উৎপাদনে যাওয়ার আশা করছে বলে ‘দি মাইনিচি ডেইলি নিউজ’ জানায়।
পত্রিকার প্রতিবেদনে বস্ত্র খাতকে বাংলাদেশের প্রধান শিল্প হিসেবে উল্লেখ করে বাংলাদেশের স্থানীয় বাজারকে মূলত আমদানিকেন্দ্রিক বলে জানানো হয়। কিন্তু এর পাশাপাশি বাংলাদেশের নিজস্ব শিল্প উৎপাদক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রসারণ সম্বন্ধেও ভূয়সী প্রশংসা করা হয়।
প্রতিবেদনে ওয়ালটন সম্বন্ধে বলা হয়- তারা ইতোমধ্যেই স্থানীয় বাজারের একটি বিশাল অংশকে তাদের উৎপাদিত স্বল্পমূল্যের পণ্যের মাধ্যমে দখল করে এখন মোটরসাইকেল উৎপাদন শুরু করেছে। এভাবেই ওয়ালটনসহ বাংলাদেশের শিল্প উৎপাদনকারী অন্য প্রতিষ্ঠানগুলো দেশটির অন্যতম রফতানিকারক হয়ে উঠছে বলেও তুলে ধরা হয় প্রতিবেদনে।
প্রতিবেদনে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক সাফল্যকে তুলে ধরা হয়। বিগত কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশ প্রায় ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি লাভ করছে উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়- বাংলাদেশ সরকার নতুন নতুন বিশেষ অর্থনৈতিক এলাকা নির্মাণের মাধ্যমে দেশের ভারী শিল্প খাতকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে।
এশিয়ার অন্যতম প্রতিশ্রুতিশীল এই বাজারে নিজেদের উপস্থিতি জোরদারের জন্য জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশন বা ‘জেইটিআরও প্রেরিত একটি জাপানি বাণিজ্যিক প্রতিনিধিদল ফেব্রুয়ারি মাসে ঢাকা সফর করে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
উল্লেখ্য, গাড়ির যন্ত্রাংশ এবং ইলেক্ট্রনিক্স নির্মাতাসহ প্রায় ৪০টি জাপানি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ওই সফরে অংশগ্রহণ করে। সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশের সস্তা শ্রম এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির প্রতি জাপানি ব্যবসায়ী মহলের মনোযোগ আকর্ষণের বিষয়টি প্রতিফলিত হয় বলে তুলে ধরা হয় প্রতিবেদনে।
এ প্রসঙ্গে ‘জেইটিআরও’র ঢাকা কার্যালয়ের প্রধানের বক্তব্য প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়। তার উদ্ধৃতি দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয় বাংলাদেশে ব্যবসা সংক্রান্ত খোঁজখবর ও পরামর্শ নেওয়ার জন্য তাদের অফিসে জাপানি কোম্পানিগুলোর যোগাযোগ করার হার ২০০৬ সালের পর থেকে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।
এছাড়া প্রতিবেদনে ওয়াল্টনের পাশাপাশি বাংলাদেশের অন্যান্য দ্রুতসম্প্রসারনশীল শিল্প যেমন জাহাজ নির্মাণ খাত সম্বন্ধেও উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করা হয়।
বাংলাদেশের ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ড ইতোমধ্যেই বাংলাদেশি প্রকৌশলী এবং স্থানীয় প্রযুক্তির মাধ্যমে দেশের বাইরে বিশেষ করে ইউরোপে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ছোট ও মাঝারি নৌযান নির্মাণের কার্যাদেশ লাভ করেছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
জাপানি পত্রিকায় এই প্রতিবেদন প্রকাশের ঘটনা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিকেই প্রতিষ্ঠা করে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। দেশীয় শিল্পপন্য উৎপাদনকারী যেমন ওয়ালটনের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের উৎপাদিত পণ্যের মাধ্যমে শুধু দেশের শিল্প বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকাই পালন করছে না বরং তা আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বাংলাদেশকে স্বমহিমায় উপস্থাপন করছে।








