ক্যান্সারের ঝুঁকি হ্রাসের জন্য উদ্ভিদের ওপর নির্ভর করাই উত্তম ও বিধেয়। তাই বলেন, ঋড়ড়ফং ঃড় ভরমযঃ ঈধহপবৎ লিখে খ্যাত মনট্রিয়েলের কুইবেক বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ ডক্টর রিচার্ড বেলিভিউ, উদ্ভিদের মধ্যে যে ফাইটোনিউট্রিয়েন্ট ও অন্যান্য বিশেষ যৌগ রয়েছে সেজন্যই এ হিতকারী গুণ। দিনে যত বেশি পারেন সবজি ও ফল খাবেন। ৬টি সুপারস্টার খাদ্যের কথা বলি।
অধ্যাপক শুভাগত চৌধুরী
ব্রকোলি সব ক্রুসিফেরাস সবজি, ফুলকপি, বাঁধাকপি সবগুলোয় রয়েছে ক্যান্সার রোধী গুণাগুণ, তবে ব্রকোলি একমাত্র সবজি যাতে রয়েছে প্রচুর সালফোরাফেন, বিশেষ সক্রিয় যৌগ যা শরীরের সুরক্ষাকারী এনজাইমদের উজ্জীবিত করে এবং বের করে দেয় ক্যান্সারজনক রাসায়নিক বলেন ডক্টর জেড ফাহে, ব্রকোলি লড়াই করতে সাহয্য করে স্তন, যকৃৎ, ফুসফুস, প্রোস্টেট, ত্বক, পাকস্থলী ও মূত্রাশয় ক্যান্সারের বিরুদ্ধে। তাই প্রচুর ব্রকোলি খান, সালাদে খাবেন সবসময়। ভাপেসিদ্ধ করেও খাবেন। বেরি সব বেরি বা জাম জাতীয় ফলে রয়েছে ক্যান্সার জয়কারি ফাইটো নিউট্রিয়েন্ট কালো র্যাস্পবেরিতে, বিশেষ করে, রয়েছে এনথোসায়ানিন নামে ফাইটোকেমিক্যাল প্রচুর পরিমাণে যা প্রাক ক্যান্সার কোষদের বাড়ন ধীর করে দেয় বলেন ওহাই স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের ডক্টর গেরি ডি স্টোনার। মলাশয়, অন্ননালি, মুখগহ্বর ও ত্বক ক্যান্সারের বিরুদ্ধে দেয় সুরক্ষা। টমেটো এ রসালো ফল হলো লাইকোপ্যানের শ্রেষ্ঠ উৎস, এ ক্যারোটিনয়েড লাইকোপেনের টমেটোর এমন লাল আভা। এটি যে ক্যান্সাররোধী তা নানা গবেষণায় দেখা গেছে। রান্না করা টমেটো থেকে লাইকোপেন পাওয়া যায় বেশি। আখরোট এদের মধ্যে আছে ফাইটোস্টেবোল। দেখা গেছে, এটি স্তন ক্যান্সার কোষে ইস্ট্রোজেন বিসেপটারকে রোধ করে। সম্ভবত কোষের বাড়ন ধীর করে দেয়। স্তন ও প্রোস্টেট ক্যান্সার লড়াইয়ে একটি অস্ত্র। দিনে এক আউন্স আখরোট ভালো। রসুন রসুনের ফাইটোকেমিক্যালস, নাইট্রোস্যামাইন গঠনে বাধা দেয়। সাধারণত খাদ্য সংরক্ষণে ব্যবহৃত হয় যে নাইট্রেটস, এটি খেলে পাকস্থলী ও অন্ত্রে তৈরি হয় কার্সিনোজেন নাইট্রোস্যামাইন। দেখা গেছে যেসব মহিলার খাদ্যে বেশি রসুন আছে, এদের মধ্যে কোলোন ক্যান্সার হয় কম। স্তন, কোলোন, অন্ননালি ও পাকস্থলী ক্যান্সার লড়াইয়ে বড় অস্ত্র। এককোয়া রসুন কেটে থেতলালে ভালো, রসুন থেতলালে হিতকর এনজাইমগুলো বেরিয়ে আসে। লাইকোপিন সম্বন্ধ টমেটো সসে রসুনকুচি বেশ স্বাস্থ্যকর। বিনস মিশিগান স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় দেখা গেছে, কালোবিন ও অন্যান্য বিন খেলে কোলোন ক্যান্সার অনেক কমে। আর ডাল, মটরশুঁটিসমৃদ্ধ খাবার বাড়ায় বুটায়রেট মেদ অমস্ন যা বেশি পরিমাণে হলে বাধা পায় ক্যান্সারের বাড়ন। স্তন ক্যান্সার রোধে বিনস বেশি উপযোগী। স্তন ও কোলোন ক্যান্সারে বড় হাতিয়ার। ডাল, সবজি বেশ হিতকর।








